লাইফ স্টাইল

Fahmida jui 5 months ago ভিউ:106

ইনোছেন্ট লাইফ স্টাইল


জীবনের একটা সময় সিঙ্গেল লাইফের মানুষ

গুলো রিলেশনে জড়াতে চাই না। ভালো লাগেনা এসব। ওটাই বোধই অভ্যাস হয়ে যায়। আবেগ টাবেগ ঝড় বৃষ্টি কিছুই না। বরং মনের মধ্যে কাউকে পাবার ইচ্ছা না জাগাটাই অভ্যাসে পরিনত হয়!


একটা সময় ছিলো যখন কাউকে পেলে প্রচন্ড ভালোলাগা কাজ করতো।কিন্তু এখন নতুন কারো সাথে কথা হলেই প্রচন্ড খারাপ লাগা কাজ করে। ভালো লাগেনা কথা বলতে। হাই,হ্যালো,কেমন আছো, কি করো এসবও ভালো লাগেনা! তবুও সেলফোনের দিক তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকা হয়। নিউজফিড লোডিং,গান শোনা,মাঝে মাঝে ফিল্টার মেসেজ দু একবার চেক করে আসা, অকারনেই ইনবক্স লিষ্ট থেকে প্রোফাইলগুলো আর্কাইভ কিংবা ডিলিট করা..চলতেই থাকে এমন..দিনের পর দিন...মাসের পর মাস...বছরের পর বছর..!! এরকম খাপছাড়া অ্যাটিচিউডের মানুষগুলোর জীবনে প্রায়ই দুচারজন করে নতুন মানুষ পরিচিত হতে আসে। তারাই সেধে নক করে। নক করার পর যখন খেয়াল করে মানুষটা কোনও প্রশ্ন করছেনা, শুধু দায় ঠেকেই প্রশ্নের উত্তরগুলো সংক্ষেপ করে দিয়ে যাচ্ছে তখন তারাও বাধ্য হয়ে চলে যায়। এ মানুষগুলো আসলে ব্যস্ত না, আবার কাউকে অ্যাভয়েডও করেনা। শুধু কি কারনে যেন কনভারসেশন আর লম্বা করতে চাই না। কি হবে এগুলো করে? ভালো আছি কি নেই, কি লাভ এটা জেনে...


রুমের ভেতর একেবারে লাইট অফ করেও এরা বসে থাকতে পারেনা। নিউজফিডে ঘন্টায় ঘন্টায় সেল্ফ ক্যারেকটার রিলেটেড পোষ্ট শেয়ার,মজার মজার জোক্স, ফানি ক্লিপ্স কিংবা দুচারলাইনের কবিতা,এগুলো করে তারা একপ্রকার নিজেদের সাথে সময় কাটায়! ব্যাপারটা অনেকটা এমন...

তাদের কেউ নক করবে কিন্তু তারা কথা বলবেনা।নক করলে বিরক্ত লাগবে। আবার তারা তাদের ওয়ালে কোনও স্টাটাস "অনলি মি" করে পোষ্টও করবেনা। কেউ তাদের দুঃখ-কষ্ট-হাসি-অভিমান গুলো পড়বেনা এটাও মানতে পারবে না!


এই ব্যাপারগুলো শুধু তাদের সাথেই ঘটে যারা ভার্চুয়াল & রিয়েল লাইফ দুই জায়গাতেই একা চলে! এদের বন্ধুবান্ধব একেবারে নেই বললেই চলে। কারো সাথেই খুব প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেনা।এ ধরনের মানুষের সেল্ফ কনফিডেন্স তুলনামূলক সবার থেকে বেশি থাকে।নাম মনে নেই, কোন এক ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী বলেছিলেন "পৃথিবীতে যে যত বেশি একা, সে তত বেশি মানসিক দিক থেকে স্ট্রং হতে শুরু করে।এ কারনেই তাদের বাকি জীবনটাও একাকী কাটে!


মানুষ যতোই একা থাকার চেষ্টা করুক কিংবা একা থাকার ভান ধরে বসে থাকুক না কেনো, সে আসলেই চায়না একা থাকতে। হেসে,কেঁদে,খেলে সে কাউকে না কাউকে ঠিকই না পাওয়ার গল্পগুলো শুনাতে চাই। যাদেরই শোনাতে চাই না কেনও তাদের কাছ থেকে কোন ইন্টারেস্ট পাবার আশায় তারা এমনটা করেনা।এমনও হয় স্বার্থ ছাড়াই হঠাৎ পরিচয় হওয়া একদম অপরিচিত কারও সাথে একটা মানুষ তার নিজের সমস্ত সিক্রেটগুলো বলে হালকা হতে চাই। সে প্রেম চাই না, ভালোবাসা চাই না! টাকা এমনকি দেহও চাই না। সে চাই শুধু একটুখানি এটেনশন!! 

একদম একলা একটা অন্ধকার ঘরেও একলা একটা মানুষ বাঁচতে পারবে যদি তার চিৎকার শোনার মতো কোন ভেন্টিলেটর সে ঘরে থাকে!!


কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট