কবিতা & গল্প

Fahmida jui 3 months ago ভিউ:254

সিনেটিক শহরের সাবেক রাজার শখ


সিনেটিক শহরের সাবেক এক রাজা ছিলেন যার প্রধান সখ ছিল বাঘ পালন করা !!


রাজা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন বাঘ হলো সর্বকালীন রাজাদের ক্ষমতার প্রতীকস্বরূপ হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে। আর সেজন্যেই রাজা ভালোবেসে তার রাজপ্রাসাদের একপাশে বিশাল এক বাঘের খামার তৈরি করেন। রাজার সেই বাঘের খামারটি অনেক বড়ো করে তৈরি করা হলেও তুলনামূলক সেখানে বাঘের সংখ্যা ছিলো খুবই কম। রাজার খামাটিতে মোট ৮টি বাঘ ছিল। যার মধ্যে প্রায় ৭টি বাঘই ছিলো ভয়ংকর ও হিংস্র। আর ১টি বাঘ ছিলো যেটা ঐ ৭টি বাঘের চেয়ে অন্যরকম। অর্থাৎ আঁকারে ছোট এবং রোগা-সোগা।


রাজা বাঘগুলোকে নিয়মিত দেখবাল ও খাবার দেওয়ার জন্য একজন প্রজা নিয়োগ করলেন। সেই প্রজাই বাঘগুলোকে নিয়মিত খাবার দিতো এবং দেখাশোনা করতো। প্রজা প্রায়ই খেয়াল করতেন রোগা-সোগা বাঘটার মুখের খাবার কেঁড়ে নিয়ে অন্য বাঘগুলো খেয়ে ফেলছে। কিন্তু সে কথাটি প্রজা কখনোই রাজার কাছে প্রকাশ করলো না। ধীরেধীরে সেই বাঘটি দূর্বল হয়ে পড়লো। খাবার না পেয়ে বাঘটি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে রইলো। একদিন সেই সিনেটিক রাজার রাজ্য দখল করার জন্য প্রতিবেশী এক রাজা চক্রান্ত শুরু করলেন। প্রতিবেশী রাজা সিনেটিক রাজাকে তার উপস্থিতি বোঝাতে রাজার সেই বাঘের খামারের দিকে দৃষ্টি দিলো। প্রতিবেশী রাজা মনে করলেন রাজার অনুভূতিতে আঘাত করার এটাই সর্বোত্তম মাধ্যেম।

প্রতিবেশী রাজা সিনেটিক রাজার রাজপ্রাসাদ বেষ্টিত দেয়াল ভেদ করে কোনোএক রায়ত অর্থাৎ প্রজা দ্বারা বাঘের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিলো। পরের দিন সকালে সেই খামারের নিয়জিত প্রজা যখন বাঘগুলোর সামনে খাবার দিলো সেদিনও সেই মুমূর্ষু বাঘটার খাবার কেঁড়ে নিয়ে আর সব বাঘগুলো খেয়ে ফেললো। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঐ হিংস্র ৭টি বাঘই মারা গেল। আর যে বাঘটি মুমূর্ষু অবস্থায় অনাহারে পড়ে ছিল সে বাঘটিই শুধু বেঁচে রইলো। খানিকক্ষণ পর বাঘগুলোর মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাজা খামার পরিদর্শনে এলেন এবং সেই নিয়োগী প্রজাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাঘগুলোর মৃত্যুর কারণ কী? প্রজা বলল, বাঘের খাবারে কেউ বিষ মিশিয়ে ছিল। রাজা আবার প্রশ্ন করলো, তাহলে ঐ একটি বাঘ বাঁচলো কি করে? প্রজা বলল, ঐ বাঘের খাবার বেশীরভাগ সময়ই অন্য বাঘগুলো কেঁড়ে খেয়ে ফেলতো।

এবং আজও সেটাই হয়েছে। রাজা বুঝতে পারলেন রাজ্যের কারো এতটা সাহস নেই তার বাঘের খামারে বিষ মেশানোর।

নিশ্চয় প্রতিবেশী রাজার এই রাজ্যের উপর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রাজা সবাইকে সতর্কবার্তা পোঁছালেন। রাজ্যের ভেতর বহিরাগত একজন লোকও যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য রাজা রাজ্যের চারদিকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেন। আর যে বাঘটি বেঁচে রইলো রাজা নিজ থেকেই সেই বাঘটির যত্ন নিতে লাগলেন।

গল্প থেকে শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু হলো, আপনি যখন একের পর এক অন্যের হক নিজেই আত্মসাৎ করছেন। কখন সেই আত্মসাৎ করা বস্তুই আপনার মৃত্যুর কারণ হবে তা আপনি নিজেও জানেন না।
দ্বিতীয়ত, আপনি হয়তো আপনার চারপাশের মানুষ কিংবা পরিবারের নানাবিধ সুযোগসুবিধা থেকে বরাবর বঞ্চিত হচ্ছেন। নিজেকে ভীষণ অসহায় ভেবে ধিক্কার জানাচ্ছেন। আপনি নিজেও জানেন না কতটা কাছেই আপন সফল ভবিষ্যৎ মুচকি হাসছে।

কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট