ভ্রমণ

Fahmida jui 3 months ago ভিউ:149

নেভাদা ত্রিভুজ।


নেভাদা ট্রাঙ্গেল সর্ম্পকে আমরা কতটুকু জানি?



বারমুডা ট্রাইঙ্গেল সর্ম্পকে আমরা সবাই কমবেশী জানি যেখানে কয়েক দশক ধরে।বিমান এবং জাহাজ রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেছে।কিন্তু অনেকেই জানে না আমেরিকার নেভাদাতেও এই রকম একটি স্থান রয়েছে।



চলুন ঘুরে আসি নেভাদা ট্রাইঙ্গেলের রহস্যময় জগত থেকে।

নেভাদা ট্রাইঙ্গেল একে অনেকে Passport to hell নামেও ডাকে।

নেভাদা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার কাছে ২৫,০০০ বর্গ মাইলেরও বেশি একটি এলাকা আছে গত ৬০ বছর ধরে,নেভাদা ত্রিভুজের মধ্যে কতটি ফ্লাইট অদৃশ্য হয়ে গেছে তা নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারবে না।অনেকের মতে সেখানে গত ৬০ বছরে প্রায় ২,০০০ প্লেন হারিয়ে গেছে।
ত্রিভুজটি সাধারণত লাস ভেগাস নেভাদা পর্যন্ত বিস্তৃত হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

দক্ষিন-পশ্চিম নেভাদার মধ্যে ফ্রেসনো,ক্যালিফোর্নিয়া পশ্চিমে এবং রিনো,নেভাদা সর্ব উপরে।এই মরুভুমিতে আমেরিকার আরেকটি গোপন রহস্যময় গবেষনা স্থান আছে যার নাম এরিয়া ৫১।

এই স্থানে অনেক অভিজ্ঞ পাইলট বিমান নিয়ে আকাশে উঠার পরে রহস্যময় পরিস্থিতিতে অন্তর্ধান হয়ে গেছে।অনেক বিমানের ধ্বংসস্তূপ কখনো পাওয়া যায়নি।

 ২০০৭ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বরে জেমস স্টিভেন ফসেট নামের একজন বিখ্যাত বিমান চালক (ইনি বেলুনে চড়ে বিশ্ব ভ্রমন করেছিলে) নেভাদা এর গ্রেট বেসিন মরুভূমির উপর একটি এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট বেলান্কা ডেকথালন বিমান নিয়ে আকাশে উঠে কিন্তু আর কখনো ফিরে আসেননি।

অনেক খোজাখুজির পরেও তার এবং বিমানের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।অবশেষে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সালে অনুসন্ধান বন্ধ ঘোষনা করা হয়।এবং ফসেটকে মৃত ঘোষনা করা হয়।সেই বছরেই ২৯ শে সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার উপরে একজন হাইকার ফসেটের শনাক্তকরন কার্ড খুজে পায়।

তার কিছুদিন পরে ফসেট যেখান থেকে উড্ডয়ন করেছিলেন সেখান ৬৫ মাইল দূরে বিমানে ধংসাবশেষ পাওয়া যায়।তার কয়েকদিন পরে এখান থেকে আধা মাইল ধুরে দুইটি হাড়ের টুকরা পাওয়া যায় এবং ধারনা করা হয় এই টুকরা দুটি ফসেটের দেহের।

বিমানের ধংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ফ্লাইটে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না।অনেক লোক মনে করে যে সে তার নিজের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন অথবা তাকে এরিয়া ৫১ এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

ট্রায়াঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া সবচেয়ে প্রাচীনতম বিমানগুলির মধ্যে একটি হল ৭০ বছর আগের একটি ঘটনা।১৯৪৩ সালে সিয়েরা নেভাদা পাহাড়ে একটি বি -২৪ বোমারু বিমান দূর্ঘটনায় পতিত হয়।

ডিসেম্বরের ৫ তারিখে পাইলট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম তুরে সহকারী পাইলট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট রবার্ট এম হেস্টার সাথে আরো চারজন সদস্য।ফ্লাইটটি নিয়মিত নাইট ট্রেনিং মিশন ছিলো।

এদের গন্তব্য ছিলো ক্যালিফোর্নিয়ার হ্যামার ফিল্ড থেকে বেরসফিল্ড,টুকসান হয়ে আবার ফ্রেসনোতে ফিরে আসা।কিন্তু বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়।পরের দিন নিখোজ বিমানের খোজে একটি ব্যাপক অনুসন্ধান মিশন শুরু হয়।

অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয় আরো নয়টা বি-২৪ এখান থেকেও আরো একটি বিমান নিখোঁজ হয়ে যায়,এই বিমানের পাইলট ছিলেন স্কোয়াড্রন কমান্ডার ক্যাপ্টেন উইলিয়াম ডারডন।

পরবর্তীতে বিমানটি হাটিংটন হ্রদের ১৯০ ফুট পানির নিচে পাওয়া যায় ভিতরে চারজন ক্রু সহ।ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্র‍থম বিমানের পাইলট রবার্ট হাস্টারের পিতা ক্লিনটন হাস্টার তার পুত্রের খোজে ব্যক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করেন যা পরবর্তী ১৪ বছর ধরে চলে,১৯৫৯ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার পুত্র বা নিখোঁজ বিমানের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি।

১৯৬০ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষক দল সিয়েরা পর্বতমালার দূরবর্তী অংশ সিকোয়ার লেকোন্ত ক্যানিয়ন
এবং কিংস ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে কাজ করার সময় একটি নামহীন অজানা হ্রদের কাছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুজে পান।

সেনাবাহিনীর তদন্তকারীরা তদন্ত করে জানতে পারেন এটা হারিয়ে যাওয়া প্রথম বি-২৪ বিমান।সেই হ্রদটির নাম রাখা হয়েছে হেস্টার লেক।

১৮৫৭ সালের ৯ ই মে বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট ডেভিড স্টিভস সান ফ্রান্সিসকোর কাছে অবস্থিত হ্যামিল্টন বিমানঘাটি থেকে একটি টি -৩৩ প্রশিক্ষণ জেট নিয়ে অ্যারিজোনা যাওয়ার
পথে নেভাদার আকাশে বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়।

ব্যাপক অনুসন্ধানের পর,বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ বছর বয়সী পাইলটকে মৃত ঘোষণা করে।এর ৫৪ দিন পরে, পাইলটকে ছেড়া নোংরা পোশাক পরিহিত,অবস্থায় পাওয়া যায় ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের পশ্চিমের একটি কেবিনে।

তার ভাষ্যমতে উড্ডয়নের কিছু সময় পরে বিমানটিতে কিছু একটা বিস্ফোরিত হয়েছিল,এর পরেই সে বিমানের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে এবং সে প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে লাফ দেন।মাটি থেকে ১২,০০০ হাজার ফুট উপরে পাহাড়ে অবতরন করেন।প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে ১৫ দিন কোন খাবার এবং আশ্র‍য় ছাড়া ২০ মাইল হেটে কেবিনে এসে পৌছে।পরবর্তী সময় অনুসন্ধান চালিয়েও বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় নি।

১৯৬৪ সালের আগস্ট মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড থেকে চার্লস ওগলে নামের একজন রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার (এবং সাবেক মেরিন কর্পসের প্রশিক্ষিত পাইলট)বিমান নিয়ে নেভাদা যাওয়ার পথে অদৃশ্য হয়ে যান।

এরপরে তাকে আর কখনো দেখা যায়নি এবং তার বিমানও খুঁজে পাওয়া যায় নি।নেভাদা ট্রাইঙ্গেলে বিমান নিখোঁজ হওয়ার অনেক ঘটনার মধ্যে থেকে কয়েকটির বর্ননা।

নেভাদা ত্রিভুজের মধ্যে বিমান নিখোঁজ হওয়ার কারণ কী?

ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবী করে আসছে এই বিমান নিখোঁজের পিছনে এরিয়া ৫১ (মার্কিন বিমান বাহিনী গোপন প্রোটোটাইপ বিমান পরীক্ষা করার জন্য পরিচিত) কোন যোগসুত্র আছে।

কিন্তু,অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন এই অঞ্চলের জলবায়ু বিশেষ ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা সৃষ্টি করে।রেনোর ডেজার্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের একজন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কেলি রেডমন্ড উত্তর খোঁজার জন্য পর্বতগুলির বায়ু গঠনের দিকে নজর দেন এবং এই বিষয়ে গবেষনা করেন।তার মতে উচ্চ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাতাসে চলাচলের জন্য সিয়েরা নেভাদা পাহাড়গুলিতে প্রচন্ড জেট স্ট্রিম সৃস্টি হয়।

এই স্ট্রিম উচু পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে বেড়া আকৃতির পরিসীমা নিয়ে অনিশ্চিত বায়ু প্রতি ঘন্টায় ৪০০ মাইল গতিতে ডাউনড্রাফট তৈরি করে।আবহাওয়ার এই ঘটনাটিকে মাঝে মাঝে "মাউন্টেন ওয়েভ" বলা হয়।আর এর মধ্যে বিমান প্রবেশ করলে খুব দ্রত বিমান মাটিতে পরে যায়।

ধারনা করা হয় প্রতিঘন্টায় ৪০০ মাইল গতির ডাউনড্রাফটের মধ্যে যখন ফসেটের বিমান প্রবেশ করে তখন ফসেটের বিমানের গতি ছিলো ৩০০ মাইল প্রতি ঘন্টায় আর এই গতি পার্থক্য ফসেটের বিমান ধংস হবার পিছনে দায়ী।

কেলির মতে যখন একটি ছোট বিমান নিচু দিয়ে উড়ে যাবার সময় এই ডাউনড্রাফটে পড়লে এখান থেকে বেড়িয়ে যাবার মতো পর্যাপ্ত গতি এইসব বিমানে থাকে না,আর এর শেষ পরিনতি বিমান ধংস।

অনেকের মতে ফসেটের ব্যাখা নিখোজ ২,০০০ এর বেশী বিমানের বেলায় খাটানো বোকামি।বি-২৪ বোমারু বিমান অনেক শক্তিশালী ইঞ্জিনের অধিকারী এর বেলায় ডাউনড্রাফট তথ্য একেবারেই অসাড় তাও আবার একটি নয় দুটি বিমান।

কাজেই এখানে ঘটা সব ঘটনাগুলোকে এক ব্যাখ্যায় ফেলা সম্ভব নয়,ব্যাখ্যার বাইরে কিছু ঘটনা ঘটে যার ব্যাখ্যা খুজে বের করা সম্ভব নয়।আমরা কখনই এর কারণ জানতে পারবো না।এই জায়গাগুলি সর্বদা আমাদের নাগালের বাইরে এবং আমাদের বর্তমান ব্যাখ্যার বাইরে থাকবে।


কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট