কবিতা & গল্প

Hadiuzzaman Hridoy 3 months ago ভিউ:221

বোকা_বউ



পর্ব-০১


...

পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষেরই বিয়ে নিয়ে আলাদা একটা ইচ্ছা থাকে,অনুভূতি থাকে, থাকে মনের ভিতর না না জল্পনা কল্পনা। 

বিয়েতে এই করবে সেই করবে..

এত্তো এত্তো মজা করবে,নাচবে গাইবে হাসাহাসি মজামাস্তি করবে, সে ছেলে হোক বা মেয়ে। 

বিয়ের দিন মনের ভিতর লাড্ডু ফুটে,,,অজানা এক ভাললাগার বাতাস কাঁপিয়ে দিয়ে যায় দোল খাইয়ে দেয় মনের আঙ্গিনায়। 

সবচেয়ে বেশি কাপিয়ে তোলে বাসর ঘরের কথা মনে করে, প্রতিটা নড় নাড়ী তার বাসর ঘরকে নিয়ে মনের ভিতর আলাদা একটা চিন্তা করে রাখে যা ভাবতেই  

অন্য রকম শিহরণ বয়ে যায় গায়ে.. 

 সবার ক্ষেত্রে কিন্তু একই ঘটনা ঘটে না।

যেমন আমার মধ্যে... 

হে আজ আমি বিয়ে করেছি, আজ আমাদের প্রথম রাত বিয়ের পর, যাকে বাসর রাত বা মধুর রাত বলে।

সবই ঠিক আছে, বউ আমার ঘোমটা দিয়ে হয়তো বসে আছে বাসর ঘরে।

বউ নিয়ে সবার ভিতর  যেমন পছন্দ থাকে, কল্পনা থাকে বউ আমার এমন সুন্দরী হবে, অমন হবে, ভদ্র প্রকৃতির হবে, চরিত্রবান হবে, শিক্ষিত হবে। 

তেমন সব গুনই আছে আমার বউয়ের মধ্যে। 

দেখতে যথেষ্ট পরিমাণ সুন্দরী, আশেপাশের এমন কেউ নেই তার দ্বারের কাছে যাবে চেহারার দিক থেকে। 

আজ পর্যন্ত সব ক্লাসে কখনো প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় হয় নাই,আর আমার জানা মতে চরিত্রবান।

সব ঠিক থাকার পরেও মনের ভিতর কোন ফিলিংস নেই, কোন শিহরণ নেই, নেই কোন ভাললাগা।

যখন মনে হচ্ছে এই মেয়ে আমার বউ,,তখনই নিজের গলায় ফাঁস দিয়ে মরে যেতে ইচ্ছা করছে। 

সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে নিচে আমার রুমে, আর আমি ছাঁদে দাড়িয়ে একা একা ভাবছি কি হল এটা আমার সাথে?? 

এই সময় অন্য কেউ  বউ হলে হয়তো রুমে যেতাম, ভাললাগার বিষয়গুলো জানতাম তার থেকে, জানাতাম নিজেরটা।খুঁজে নিতাম নিজের ভালবাসা।

তা তো হচ্ছেই না উল্টো আরো রাগ হচ্ছে আমার। 

এখন হয়তো সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, সব গুনাগুন থাকার পরেও কেন রাগ হচ্ছে?? 

হয়তো ভাবছেন আমি অন্য কাউকে লাভ করি আর তাকে পাইনি বলে বিয়ে করা বউকে মেনে নিতে পারছি না, বা আমার বউ অন্য কাউকে লাভ করে যা আমি জানি তাই মেনে নিতে পারছি না 

না এর একটাও না....

আমি কখনো কাউকে লাভ টাভ করি নাই ঐরকম ভাবে। 

ছোট্ট বেলা থেকেই মনে ভিতর পুষে রেখেছি না জানা বউকে, তাই বউয়ের ভালবাসা অন্য কাউকে দেওয়ার চিন্তাও করি নাই কখনো। 

আর ওর কথা তো আগেই বললাম, চরিত্রবান মেয়ে কখনো ভালবাসার আশেপাশেই যায় নি।

আসলে এটা বললেও ভুল হবে। 

যায় নি না,যাওয়ার মতো বুদ্ধি জ্ঞান হলে তো যাবে নাকি???

কিছুটা টের পেয়েছেন নিশ্চয়ই... 

হে বুদ্ধি জ্ঞান হয় নাই ওর..

হে আমি যাকে বিয়ে করেছি, যে আমার বউ সে একটা আস্ত বোকা... যাকে আমাদের এলাকার ভাষায় রাম ভোদাই বলে থাকে।

জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি কিন্তু ওর মতো বোকা মানুষ আমি দেখি নাই, কান্ডজ্ঞান বলতে কিচ্ছু নেই। 

দিনদুনিয়ার সব খেয়াল থেকে দূরে, বড় হয়েছে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে অথচ বুদ্ধি বা জ্ঞানের দিক থেকে ক্লাস টু এর বাচ্চা পোলাপান ওর চেয়ে এগিয়ে।( তবে একটা বিষয় আমার মাথায় কিচ্ছুতেই ঢুকে না এই বোকা হাঁদারাম মেয়ে কিভাবে এতো ভালো রেজাল্ট করে??)

আর এটাই হচ্ছে একমাত্র সমস্যা। 

যার মধ্যে বিন্দু মাত্র বুদ্ধি নেই, কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে, কি আচরণ করতে হবে তাই বুঝে না এমনকি কি  পোশাক পড়তে হবে, কোনটা পড়া যাবেনা

তাও অন্য কাউকে বলে দিতে হয়।

কেমন বোকা তা আস্তে আস্তে জানতে পারবেন।

এখন তাহলে নিশ্চয়ই আরেকটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে

ও যে এতো বোকা তা আমি জানলাম কেমন করে আর জেনে শুনে বিয়ে করলাম কেনো...

তাহলে শুনেন কাহিনি.. 

ওহ্ তার আগে পরিচয় পর্ব শেষ করে নেই.. 

আমাকে তো সবাই চিনেন...

আমি কৌশিক আহমেদ। আমরা দুই ভাই এক বোন।

বাড়ি টাঙ্গাইল। 

ভাইয়া আব্বুর সাথে বিজনেস করেন আর ছোট বোন পড়াশোনা, আমিও পড়াশোনা শেষ করে বাবার বিজনেস দেখাশোনা করছি।আর যাকে বিয়ে করেছি তার নাম সুরভী চৌধুরী আলো... (এখন অবশ্য আর চৌধুরী নেই??) ডাক নাম সুরভী। 

সুরভীর আব্বু আর আমার আব্বু দুজনেই ভালো বন্ধু আর তাছাড়া সুরভীর আব্বু একটা কলেজের প্রফেসর। 

আমিও সেই কলেজেই পড়াশোনা করেছি তাই উনি আমার স্যার,আমি অবশ্য স্যার আংকেল দুটাই বলে ডাকতাম, কিন্তু আজ তো.........

যাইহোক যেহেতু আমাদের পারিবারিক ভাবে ভালো একটা সম্পর্ক আছে তাই আমাদের একের অপরের বাড়ি আগে থেকেই যাতায়াত ছিল। 

শুধু যাতায়াত না,কিছু একটা হলেই একে অপরের উপকার করতে এগিয়ে আসে আর অনুষ্ঠান হলে তো কথাই নেই। 

আমিও অনেক বার গিয়েছি সুরভীদের বাড়ি। 

সুরভীরা দুই বোন এক ভাই। 

সুরভী সবার চেয়ে বড়।

আগে থেকেই ওদের সবার সাথে খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিল আমার সাথে। 

দুই বোন এক ভাই তিনজনই আমাকে দেখা মাত্রই পাগল হয়ে যায়, দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে না হয় কোলে বসে পরে।

যদিও সুরভী বয়সের দিক থেকে বেশ বড় হয়েছে কিন্তু ওর ছোট বাচ্চার মতো মনমানসিকতার জন্য এসব নিয়ে কেউ কিছু ভাবেনি।

আমিও কিছু মনে করতাম না। 

কখনো অন্য রকম নজরে(মানে বিয়ে বা রিলেশন)  দেখা তো দূরের কথা, এসব চিন্তা মাথাতেই আসে নি।

হঠাৎ করেই দুই দিন আগে আব্বু জানায় দুই দিন পরে নাাকি আমার সাথে সুরভীর বিয়ে। 

কথাটা শুনেই মাথা ঘুরে যায় কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারিনি।

আমি আবার আব্বুকে একটু বেশিই ভয় পাই। 

তাই আব্বুকে কিছু না বলে আম্মুকে জানাই আমি এই বিয়েকে রাজি না আর এটা কোনভাবেই সম্ভব না। 

ওর সাথে আমার কেমনে কি??

কিন্তু আম্মুকেও দেখলাম কোন ভ্রুক্ষেপ নেই এতে।

আমার কথায় কর্নপাত করছেনা, মানে উনিও সুরভিকে বউ হিসেবে পেতে চাচ্ছে। 

তাই ভাইয়া, ভাইয়ার পরে ভাবিকে বিষয়টা জানাই।

কিন্তু কেউ আমার কথার পাত্তা দিচ্ছে না।

সবারই সুরভিকে অনেক পছন্দ। 

আরো উল্টো আমাকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয় বিয়েটা হচ্ছে আর আমি যেন কোন প্রকার উল্টো পাল্টা কিছু না করে চুপচাপ মেনে নেই। 

কিন্তু আমি তো কোন ভাবেই মানতে পারছি না তাই ডিশিসন নেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো,আর যেহেতু সুরভীর আব্বু আমার স্যার সেহেতু উনাকেও আমার অনাগ্রহের কথা জানাতে পারি নাই। 

বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও লাভের লাভ কিচ্ছু হল না।

খুঁজে বের করে এনে মোটামুটি জোর করেই বিয়েটা করিয়ে দেয়। 

এই হচ্ছে কাহিনী...  বিয়ে তো হয়েই গেছে কিন্তু আমি তো মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। আবার কিছু করতেও পারছি না তাই চুপচাপ দাড়িয়ে আছি ছাঁদে।

কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না, এভাবে সুরভিকে বিয়ে করার জন্যে কোন বন্ধুদের কেউ ইনবাইট করি নাই যে তাদের কাছে পরামর্শ নিবো।

আসলে আমার সব বন্ধুরা সুরভিকে চিনে আর ওরা যদি জানতে পারে আমি সুরভিকে বিয়ে করেছি তাহলে সবার চোখে হাসির পাত্র হয়ে যাবো।

ধুর কিচ্ছু ভালো লাগছে না,কিভাবে এই মেয়েকে নিয়ে সংসার করবো,সকলের সাসনে নিয়ে যাবো।

যাইহোক ভাবনার ঘোরে ছেদ পড়ে আব্বুর ধমকে.. 

কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয় তাড়াতাড়ি যেন নিচে নেমে যাই আর সুরভী একা বসে আছে রুমে, ওর সাথে থাকি প্লাস কোন প্রকার ঝামেলা তৈরি না করি।

যদি উল্টো পাল্টা কিছু হয় তাহলে আমাকে মেরে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবে।

কি করার, আব্বুর চোখের দিকে তাকালে আমার অবস্থা কেরোসিন হয়ে যায় তাই কিছু না বলে চুপচাপ রুমের দিকে ছুটে যাই...

রুমে ঢুকার আগে ভাবি এসে পথ আগলে দাড়ায় আর বাসর ঘরে কি কি করতে হবে ইত্যাদি আলতু ফালতু কথা বলতে থাকে যা শুনে মেজাজটা ভিগরে যায়। 

কোন মতে ধমক দিয়ে সড়িয়ে দিলাম কিন্তু উনিও নাছোড়বান্দা... 

ভাবিঃ- দেবর জি,,,,বাসর ঘরে কিন্তু বিড়াল মাড়তেই হবে হি হি...

আমিঃ- তুমি কি যাবে এখান থেকে নাকি..... 

ভাবিঃ- ওহ্ বুঝেছি,,, দেবর জির আর তর সইছে না।

আমার জন্য লেট হয়ে যাচ্ছে হি হি...

ধ্যাত দিল নষ্ট মেজাজ আরো খারাপ করে। 

কোনমতে পাশকাটিয়ে রুমে চলে আসি।

এসে দেখি.......???? 

।।

।।।

বাকি অংশ দেখতে www.doodola.com/login আমাদের ওয়েবসাইটে সাইনআপ করে কমেন্ট করুন।


আপনাদের উৎসাহই আমাকে গল্প দেবার অনুপ্রেরনা দেয়।


কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট