প্রাকৃতিক

Tahmid Iqbal 4 months ago ভিউ:215

বৈচিত্র্যময় সেই টাংগুয়ার হাওর।


টাংগুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এই হাওর।


ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের নিচে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কোলাহলে মুখরিত টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম।


বর্তমানে মোট জলমহালের সংখ্যা ৫১টি এবং মোট আয়তন ৬,৯১২.২০ একর। কিন্তু নলখাগড়া বন, হিজল করচ বনসহ বর্ষাকালে এই সমগ্র হাওরটির আয়তন দাড়ায় প্রায় ২০.০০০ একর।


টাংগুয়ার হাওর প্রকৃতির একটি অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ। এ হাওর শুধু মাত্র একটি জলমহাল বা মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়। বরং এটি একটি মাদার ফিশারী। হিজল করচের দৃষ্টি নন্দন সারি এই হাওরকে করেছে মোহনীয়।


এ ছাড়াও নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলঞ্চা, শতমূলি, শীতলপাটি, স্বর্ণলতা, বনতুলসী ইত্যাদি সহ দু’শ প্রজাতিরও বেশী গাছগাছালী রয়েছে এ অঞ্চলে। জেলা প্রশাসনের কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বর্তমানে এ হাওরে ছোট বড় ১৪১ প্রজাতির ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির কচ্ছপ, ৭ প্রজাতির গিরগিটি এবং ২১ প্রজাতির সাপ রয়েছে।


শীতের মৌসুমে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ব্যাপক পাখির আগমন ও অবস্থানে মুখরিত হয় টাঙ্গুয়ার হাওর। বিলুপ্ত প্রায় প্যালাসেস ঈগল, গ্রে-কিংষ্টর্ক, শকুন এবং বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি ছিল টাঙ্গুয়ার হাওরের অবিস্মরণীয় অপরূপ দৃশ্য।


স্থানীয় জাতের পাখি পানকৌড়ি, ডাহুক নানা প্রকার বালিহাঁস, গাংচিল, বকসহ কিছু সারসের সমাহারও  বিস্ময়কর। বিগত শীত মৌসুমের প্রতিটিতে ২০/২৫ লক্ষ পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরে ছিল বলে অনুমান করা হয়।


কোনো কোনো স্থানে তো  কিলোমিটারের বেশী এলাকা জুড়ে শুধু পাখিদের ভেসে থাকতে দেখা যায়। টাঙ্গুয়ার হাওরে মাছ-পাখী এবং উদ্ভিদের পরস্পর নির্ভরশীল এক অনন্য ইকোসিস্টেম। মাছের অভয়াশ্রম হিসাবে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী।

কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট