ভ্রমণ

Tahmid Iqbal 4 months ago ভিউ:259

সৌন্দর্যের প্রতীক সেই নিঝুম দ্বীপ।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও মেঘনার মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে এই নিঝুম দ্বীপটি। দেশের দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে এটি একটি।

নিঝুম দ্বীপটি হাতিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন। ২৫ হাজার একর ভূমিতে গড়ে উঠা এই দ্বীপটি দেশের  মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।


২০০১ সালে সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান ও ২০০৮ সালে ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিঝুম দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ হলো হরিণ।


এখানে-সেখানে ঝাঁক বেঁধে উরে বেরাচ্ছে নানা রকমের পশু-পাখি, আবার কেওড়াবনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মায়াবী হরিণগুলোর দল।


শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই দ্বীপের পরিবেশ। তখন এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকেরা ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। দিনে দিনে বাড়ছে এই সৌন্দর্যপিপাসুদের সংখ্যা।


দ্বীপের ছঁয়োয়াখালী, নামার বাজার, সতফুল বাজারসহ আরও অন্যান্য স্থান থেকে তারা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখেন। 


নিঝুম দ্বীপের লোকসংখ্যা মোট ৩০ হাজার আর হরিণের সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দ্বীপে আটটি পুরুষ ও সাতটি মাদি হরিণ, দুটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী বানর ছেড়ে দেন।


বন কর্মকর্তারা জানান যে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় দ্বীপের বনাঞ্চলে হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী ছেড়ে দাওয়া হয়। তবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক প্রাণীই কমে গেছে। খাবার-পানির সংকট, কুকুর ও শেয়ালের হামলাসহ নানা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ দ্বীপে এখন বাস করছে প্রায় ৪০ হাজার চিত্রা হরিণ, যেটি এ দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ।


নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশ জুড়ে রয়েছে এক সমুদ্র সৈকত। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে নিঝুম দ্বীপ সুন্দরবন, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও কুয়াকাটার মতো একটি মনোরম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে দাড়ায়। অক্টোবর মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। 

কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট