কবিতা & গল্প

Fahmida jui 4 months ago ভিউ:76

ভালোবাসি তোমায়


একটি ভালবাসার গল্প


আজ হিমেল এর ভাইবা পরিক্ষা। তাই হিমেল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসের দিকে রওনা দিলো। অফিসে ঢুকে হিমেল।
হিমেল-স্যার আমি কি আসতে পারি।
স্যার-জি আসুন।
তার পর হিমেল অফিসে ঢুকে পড়লো।


স্যার- আপনার নাম কি।  

হিমেল- আমার নাম মোঃহিমেল হাওলাদার। 

স্যার-তো আপনি পড়াশোনা কতদূর পর্যন্ত করছেন।


হিমেল- স্যার আমি মাস্টার্স পাশ করেছি।

স্যার - খুব ভালো। তা চাকরি করাটা খুব জরুরি। 

হিমেল- স্যার...।


স্যার- ঠিক আছে আপনার চাকরি আমি দিয়ে দিলাম। কাল থেকে আপনি অফিসে জয়েন করবেন। 


হিমেল-ধন্যবাদ স্যার। 

স্যার- আপনি এখন আসতে পারেন। 


হিমেল অফিস থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো। আর ভাবলো চাকরি তো হয়ে গেলো। মা বাবা কে সুখবর টা কেমনে দিবো। তাই হিমেল মিষ্টি হাতে নিয়ে বাড়িতে চলে গেলো। বাড়িতে গিয়ে হিলেম মায়ের রুমে গিয়ে মিষ্টির প্যাকেট টা খুলে। মায়ের মুখে মিষ্টি ধরে বলে মা হা করো। 


মা- কেন। আর মিষ্টিই বা কেন খাওয়াতেছিস। 

হিমেল- মা আমি যে সকালে অফিসে গেলাম ভাইবা পরিক্ষা দেওয়ার জন্য। আর ভাইবা পরিক্ষায় পাশ করেছি। আর আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। এবার হা করো।


তার পর হিমেল তার মুখে মিষ্টি দেয়। তার পর মিষ্টি খাওয়ায়ে তার রুমে গেলো।


হিমেল বাবার মায়ের এক মাত্র আদরের সন্তান। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী। আর তার মা একজন গৃহিণী। আর হিমেল মাস্টার্স পাশ করে একটা চাকরির জন্য আবেদন করে ছিল। আর চাকরিটা পেয়েও গেছে।


পর দিন সকাল বেলা হিমেল অফিসে ঢুকে। অফিসের অনেকে তার সাথে পরিচয় হলো। 


কেউ কেউ আবার তাকে কাজ গুলো বুঝিয়ে দিতে লাগলো। হিমেল তার রুমে একটু রেস্ট নিয়ে কাজ করা শুরু করলো। এমন সময় একটা মেয়ে এসে।

মেয়ে-হাই আমি রিয়া।  

হিমেল- মেয়েটার দিকে তাকিয়ে হা হয়ে গেলো।

 

কিছুক্ষণ হিমেল মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো। আর তাকাবেই না কেন। মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর। মনে হচ্ছে কোন হূরপরী তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যেমন চেহেরা তেমন সুন্দর চাহনি। চোখ দুটি মায়ায় ভরা।যে কেউ তার প্রেমে পরে যাবে। 


মেয়ে- এই যে কি দেখতাছেন। 

মেয়েটার কথায় হিমেল স্বাভাবিক হয়ে বললো। জি বলুন।


মেয়ে- আমি রিয়া।

হিমেল- আমি হিমেল।

রিয়া- তা কেমন লাগতাছে প্রথম দিন অফিসে এসে।


হিমেল- রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো খুব ভালো।

রিয়া- ভালো। আর আমি আপনার পাশের রুমেই থাকি। কোন দরকার পরলে বলবেন।


হিমেল- ঠিক আছে।

তার পর রিয়া চলে গেলো। হিমেল শুধু তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার পর হিমেল তার কাজে মন দিলো।

তার পর রিয়া চলে গেলো। হিমেল শুধু তার দিকে তাকিয়ে আছে। একটু পর হিমেল স্বাভাবিক হয়ে তার কাজে মন দিলো। 


সারাদিন কাজ করে বিকাল বেলা হিমেল অফিস থেকে বাসায় চলে গেলো। আবার পরের দিন সকাল বেলা অফিসে আসে। এভাবে মাস কেটে গেলো। এখন হিমেল সবার পরিচিত হয়ে উঠেছে। আর হিমেল অফিসের কাজ গুলো ভালো ভাবে করে। আর এ জন্য অফিসের সবাই তাকে সম্মান করে।


একদিন দুপুর বেলা হিমেল তার অফিসের রুমে লান্স করতাছে এমন সময় রিয়া রুমের দরজায় এসে।


রিয়া- আমি কি ভেতরে আসতে পারি।

হিমেল- আপনার আসতে কি আমার পারমিশন লাগে। যখন তখন আসতে পারেন। কোন পারমিশন লাগবে না।


রিয়া- ওকে সরি। আরে আপনি তো লান্স করতাছেন। আমার মনে হয় আশা ঠিক হয়নি। আমি যাই আবার পরে আসবো নি। এই বলে একটা হাসি দিয়ে রিয়া রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। 


হিমেল তার হাসি দেখেই যেন সখ খাইছে। সে খাওয়া রেখে হা করে তার যাওয়া দেখছিল।একটু আবার খাওয়া শেষ করে একটু রেস্ট নিয়ে কাজ করা শুরু করলো।


কিন্তু হিমেল এর কাজে তেমন মন বসতাছে না। রিয়া কে যখনই দেখে তখনই যেন তার বুকের ভেতর কেমন করে। রিয়া যেন তার কত আপন।


এসব এসব ভাবতে বিকাল গড়িয়ে এলো। অফিস থেকে বের হয়ে দেখে রাস্তায় রিয়া দাঁড়িয়ে আছে। হিমেল কাছে গিয়ে।


হিমেল- হাই।

রিয়া- আরে আপনি যে।

হিমেল- হুম,তা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেন।

রিয়া- বাসায় যাবো তাই রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু একটা রিকশাও আসতাছে না।


হিমেল- ওহ....। 

রিয়া-হুম,আচ্ছা আপনি দেরি করে বের হইলেন যে। 

হিমেল- একটু কাজ ছিল। সে কাজ শেষ করে বের হইলাম।

রিয়া- খুব ভালো। 


হিমেল- ঐ যে একটা রিকশা আসতাছে। আচ্ছা আপনি কোথায় থাকেন।

রিয়া-মিরপুর-১১। আপনি।

হিমেল-আমিও।

রিয়া- তাহলে এক রিকশায় যাওয়া যাবে।

হিমেল- হুম। 


হিমেল এই মামা মিরপুর ১১ তে যাবেন। 

রিকশাওয়ালা- হুম মামা।

হিমেল- এই যে উঠেন।  


তার পর হিমেল আর রিয়া রিকশায় উঠে গল্প করতে লাগলো।


৩০ মিনিট পর রিয়ার বাড়ির সামনে রিকশা দাঁড়িয়ে যায় আর রিয়া রিকশা থেকে নেমে যেই না ভাড়া দিতে যাবে ওমনি।


হিমেল- এই কি করছেন।আমি থাকতে আপনি ভাড়া দিতাছেন কেন।

রিয়া-আমি দিলে সমস্যা কি। আর এই যে মামা ভাড়াটা নেন। 


হিমেল- মামা ভাড়া নিবেন। 

রিয়া- কেন।

হিমেল- এমনি। আমি ভাড়া দিতাছি আপনি যান। 


রিয়া আর কিছু না বলে মুচকি হাসি দিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। তার হিমেল রিকশাওয়ালা কে রিকশা ছাড়তে বললো। রিকশাওয়ালা হিমেল এর বাড়ির সামনে এনে রিকশা থামিয়ে। 


রিকশাওয়ালা- মামা এখন ভাড়া দেন। 

হিমেল- এই নেন মামা।

তার পর হিমেল ভাড়া দিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।


তার পর ফ্রেশ হয়ে বাহিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেলো।


রাতে বাড়িতে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে অফিসে রওনা দিলো। 


অফিসে গিয়ে সেই কাজ করা শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর রিয়া তার রুমে আসে।


রিয়া-হাই, কেমন আছেন।

হিমেল- ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন।

রিয়া- আমিও ভালো আছি। আচ্ছা আপনাকে কিছু কথা বলবো কিছু মনে করবেন নাতো।


হিমেল- না, বলেন কি বলনেন।

রিয়া- আপনি কি বিয়ে করছেন।


হিমেল- হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন।

রিয়া- জানতে ইচ্ছে করলো তাই বললাম আর কি।


হিমেল- আসলে এখনো বিয়ে করিনি। 

রিয়া-কেন।

হিমেল- এত দিন চাকরির পিছে ঘুরছি তো তাই। আর এখন তো চাকরি পেয়ে গেছি। বিয়ে টাও সেরে ফেলবো।


রিয়া- ভালো। তা আপনার পরিবারে কে কে আছে।

হিমেল- মা,বাবা আর আমি।


রিয়া- আপনার বোন নাই।

হিমেল- না।

রিয়া- ওওওওও...।


হিমেল- হুম। তো আপনার পরিবারে কে কে আছে। 

রিয়া- মা, বাবা, আমি আর ছোট একটা বোন।


হিমেল- ওহ...।তা বিয়ে টিয়ে কি করবেন না।

রিয়া- হুম করবো তো। তবে ভালো ছেলে পাইতাছি না,তাই দেরি হয়ে যাইতাছে।


হিমেল- তাই। তা কেমন ভালো ছেলে পছন্দ আপনার।

রিয়া- জানি না। আমি এখন যাই। আপনার সময় নষ্ট করে ফেললাম। 


এর পর রিয়া চলে গেলো। আর হিমেল হাসি দিয়ে তার কাজে মন দিলো। আর কাজ করতে লাগলো।


এভাবে হিমেলের আরো কিছুদিন কেটে গেলো।এখন রিয়ার সাথে হিমেলের ভালো সম্পর্ক। কিন্তু হিমেল রিয়া কে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু কথা কি ভাবে রিয়া কে বলবে বুঝতে পারতাছে না। আর এটাও ভাবতাছে যদি হুট করে রিয়া কে তার ভালোবাসার কথা বলে তাহলে হয়তো রিয়া মন খারাপ করবে।


তাই সে ভাবলো না হুট করে রিয়া কে আমার মনে কথাটা বলা যাবে না। আর বললে রিয়া হয়তো আর কথাই বলবে না। তার বিশেষ কোন দিনে তাকে আমার মনের কথাটা বলে ফেলবো। তখন যা হবার হবে। সারাটা দিন এভাবে কেটে গেলো হিমেল।


এভাবে হিমেলের আরো কিছুদিন কেটে গেলো। এখন রিয়ার সাথে হিমেলের ভালো সম্পর্ক। কিন্তু হিমেল রিয়া কে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু কথাটা রিয়া কে কিভাবে বললবে বুঝতে পারছে না। আর ভালোবাসার কথাটা তাকে সরাসরি বলে ফেলি হয়তো আমাকে খারাপ ভাববে। 


তাই হিমেল নিজেকে শান্তনা দিয়ে বললো আর কিছুদিন পরে না হয় রিয়া কে আমার মনে কথা বলবো এখন আর এসব কথা নিয়ে ভাবতে চাই না। 


এভাবে সারাদিন কেটে গেলো। বিকাল বেলা অফিস থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে। বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে আবারো বাসা থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেলো। ঘণ্টা খানিক আড্ডা দিয়ে হিমেল আবার বাসায় চলে এলো। কিন্তু হিমেলের মন বসে না। শুধু রিয়ার হাসি মাখা মুখটা তার সামনে ভেসে উঠে। রিয়ার সাথে কথা বলতে মন চায়। কিন্তু মন চাইলে কি কথা বলতে পারবে না। কেন না তার কাছে যোগাযোগ একমাত্র অফিসেই।


তাই সে রাতের খাবার খেয়ে কোন রকম ভাবে ঘুমিয়ে পরলো। সকাল বেলা আবার রেডি হয়ে অফিসে গেলো। অফিসে গিয়ে প্রতিদিনের মতোই হিমেল তার কাজ করতে লাগলো। এমন সময় দরজায়।


রিয়া: আমি কি আসতে পারি।

হিমেল: জী আসুন।  


রিয়ার দিকে তাকাতেই হিমেল বড় ধরনের সখ খেলো। হিমেল আর চোখে ফেরাতেই পারছে না। 


রিয়া: এই যে এভাবে কি দেখছেন।


রিয়ার কথায় হিমেল স্বাভাবিক হয়ে।


হিমেল: এ আমি কাকে দেখছি। মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে পরী নেমে এসেছে। 


রিয়া: হাঁ..., তাই নাকি। আমি কি দেখতে পরী মতো। যে আমায় দেখে স্বর্গের পরী মনে হলো।


হিমেল: একদম স্বর্গের পরী মতো লাগতাছে। 


রিয়া: ওকে হইছে। আর বলতে হবে না আপনাকে।তা কেমন আছেন।


হিমেল: ভালে আছি আপনি।

রিয়া: আমিও ভালো আছি। আপনাকে একটা কথা বলার ছিল। 


হিমেল: জী বলেন।

রিয়া: আজ আমার তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে হবে।


হিমেল: বাড়িতে একটু কাজ আছে। তাই আপনাকে বলতে আসলাম। 


হিমেল: ওহ..., তা কখন বের হবে অফিস থেকে।


রিয়া: এই ঘণ্টা খানিক পর। 

হিমেল: ঠিক আছে। 

রিয়া: তাহলে যাই। 


এই বলে যেই রুম থেকে বের হবে।

হিমেল: এই যে একটা কথা ছিল। 


রিয়া: আপনার আবার কি কথা। 


হিমেল: না মানে, কথাটা হলো যে।


রিয়া: না মানে কি, কি বলবেন বলেন।


হিমেল: কিভাবে যে বলবো বুঝতে পারছি না।


রিয়া: আপনি ভাবেন আমি যাই।

হিমেল: আচ্ছা আপনার ফোন নাম্বারটা কি দেওয়া যাবে। 


রিয়া: কেন।

হিমেল: দরকার হলে ফোন করতাম। 


রিয়া: ঠিক আছে, ফোনে তোলেন ০১৭৮৯******।


নাম্বার টা দিয়ে রিয়া চলে গেলে।


তার পর হিমেল তার মত করে কাজ করতে লাগলো। আজ হিমেলের দিনটা ভালোই কেটে গেলো। অফিস থেকে বের হয়ে গেলো। বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে ঘুম দিলো। ঘুম থেকে রাত ৯ টায় জাঁগনা পাইলো। তার পর ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে আছে। আর রিয়ার কথা ভাবতাছে। ভাবতে ভাবতে এক সময় রিয়ার নাম্বারে কল দিলো।


রিয়া: আসসালামু আলাইকুম।

হিমেল: ওয়ালাইকুম সালাম।


হিমেল: কেমন আছেন।

রিয়া: ভালো না। 


হিমেল: কেন, কি হইছে আপনার।

রিয়া: তেমন কিছু না। আর আপনি এত রাতে ফোন দিছেন কেন।


হিমেল: কেন দিতে পারিনা।

রিয়া: আসলে তা না। আচ্ছা এখন রাখি আমার মনটা ভালো নেই।


হিমেল: আপনার কি হইছে বলবেন প্লিজ। 

রিয়া: শুনে কি করবেন। আর এটা আমার পারসোনাল ব্যাপার।


হিমেল : বলেন না শুনি।

রিয়া: ঠিক আছে বলতাছি।

অফিসে আপনাকে বললাম না আমার বাড়িতে কাজ আছে। 


হিমেল : হ্যাঁ..., তো তার পর।

রিয়া: বাড়ি গিয়ে দেখি আমাকে দেখার জন্য কিছু মধ্যবয়সী মানুষ ও একটা আপনার ছেলে। ছেলে নাকি সরকারি চাকরি করে।

আমি যাওয়ার পর তারা আমাকে দেখে পছন্দ করে। 


কথা টা শোনার পর হিমেলের মনের ভেতরটা কেমন জানি করে উঠলো।


 রিয়া: কিন্ত সমস্যা একটা।

হিমেল: কি সমস্যা শুনি।

রিয়া: তাদের কে ৮ লক্ষ টাকা যৌতুক দিতে হবে। কিন্তু আনাদের তো এত টাকা দেওয়া অসম্ভব।তাই ছেলে পক্ষ না করে দিয়েছে।

এজন্য মনটা খারাপ।


হিমেল: ওহ...,এর জন্য মন খারাপ করবেন না। এর চেয়েও ভালো ছেলে পাইবেন।

আচ্ছা এখন রাখি। আপনাকে আর বিরক্ত না করি। ভালো থাকবেন গুড নাইট।


এই হিমেল ফোন কেটে দিয়ে একটা দৃর্ঘ্য শ্বাস ফেললো।


এভাবে কত ভালোবাসা অপূর্ণ থেকে যায় ।

কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট