কবিতা & গল্প

Fahmida jui 4 months ago ভিউ:83

ওগো নিরুপা


সাল ছিল তখন ২০১১। সবে কলেজে ভর্তি হয়েছি। তখন ফেসবুক আইডি খুলে ছিলাম। তাখন গানের উপর নেশা ছিল বেশি। আর ইমরানের গান বেশি শুনতাম। আর ডাইরিতে লেখে রাখতাম। এমন কি সে গান গুলো লেখে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেক কে দিতাম। এ রকম ২ -৩ মাস যাওয়ার পর একটা মেয়ের আইডি থেকে মেসেস আসে।


মেসেজে গিয়ে দেখি নাম্বার দিছে, আর লেখছে প্লিজ কল দেন।

তো আমিও মেসেজের উত্তরে বললাম আমার ফোনে টাকা নাই। তো তখন মেয়েটি বললো শুধু একবার মিস কল দেন। তো আমি কিছুক্ষণ পর একটা মিস কল দেই। 

তার মেয়েটি কল দেয়।আমি কল রিসিভ করলাম।

মেয়ে: কেমন আছেন।
আমি: জী, ভালো আছি! আপনি কেমন আছেন।

মেয়ে: আমিও ভালো আছি। আসলে নাম্বার টা কল দিতে বলে ছিলাম এই কারনে। আপনার গান গুলো আমার খুব ভালো লাগে।

আমি: ও তাই!
মেয়ে : হুম! আচ্ছা আপনার বাসা কোথায়, আর আপনি কি করেন।

আমি: আমার বাসা বগুড়! আর আমি এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করি। আপনার বাসা কোথায়, আর আপনি কি করেন।

মেয়ে: আমার বাসা শিমলা। আমি নার্সের চাকরি করি। 

আমি: ভালো,তা আপনার নাম কি।

মেয়ে :আমার নাম নিরুপা।

আমি: খুব সুন্দর নাম।
মেয়ে: ধন্যবাদ! ভালো থাকবেন আবার পরে কথা হবে।

পরে দিন সকাল ১০ টায় আবার সেই নাম্বার থেকে ফোন।

সাথি: কেমন আছেন।
আমি: জি ভালো! আপনি কেমন আছেন।

সাথি: আমিও ভালো। তা কি করেন।
আমি: কিছু না, আপনি!

সাথি: আমিও! তা আপনার বাড়িতে কে কে আছে।

আমি: বাড়িতে মা,বাবা,বড় ভাই আর আমি।

সাথি: ও আচ্ছা! তা আপনার বোন নাই।

আমি : না...! 
সাথি: একটা কথা বলবো কিছু মনে করবেন না তো।

আমি: বলেন কিছু মনে করবো না।
সাথি:আচ্ছা আপনার তো বোন নাই আমাকে বড় বোন ডাকতে পারেন।

আমি: কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম।
সাথি: কি হলো বলে, আপনার বড় বোন হইলে কি সমস্যা আছে।

আমি: না, তবে একটা কথা কখনো আমায় ভুলে যাবেন না তো।

সাথি: ভাই কে কখনো ভুলে যাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না।

আমি: তাহলে আজ থেকে আপনি আমার বড় বোন। আর আপনি আমাকে তুমি করে বলবেন।

সাথি: ঠিক আছে! 
এভাবে আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক তৈরী হয়। প্রতিদিন আপু আমার খোজ খবর নিতো। ১৬-১৭ দিন যাওয়ার বলে।

সাথি: ভাই আমি মা বাবার সাথে কথা বলবো।

আমি: আচ্ছা আগামীকাল ফোন দিও।
পরের দিন সকালে আপু ফোন দেয়, আমিও মা বাবার সাথে পরিচয় করে দেয়। আমার মা বাবাও তার সাথে কথা বলে খুব খুশি, আর তাকে নিজের মেয়ে বলে মেনে নিয়ে ছিল।

এর পর থেকে রোজ আপু আমাদের খোজ খবর নিতো।

২ মাস পর হঠাৎ একদিন আপু বলে ভাইয়া আমি তোমাদের ওখানে যাবো, আর সাথে তোমার দুলাভাই ও! আমি আচ্ছা আসেন। আর মা ও আপু আসতে বললো। দুই দিন পর আপু আমাদের এখানে আসলো। এসে দুই দিন থাকার পর মা কে বলে আমাকে সাথে করে বাড়ি চলে গেলো। 

আমিও সেখানে ৭ দিন ছিলাম। সেখান আসার পর আমি প্রায় ১ মাস আপুর সাথে ঠিক কথা বলতে পরেছি। এরই মধ্যে ঈদ চলে আসলো। ঈদের এক দিন পর আপু আমায় ফোন দিলো আর বলতাছে তোমার দুলাভাই তোমার ওখানে গেলে তুমি তাকে রিসিভ করবে না।

আমি বললাম কেন। 
আপু বললাম যা বলছি তাই করবে।

আমি ঠিক আছে! ৩ ঘণ্টা পর আবার আপুর ফোন! বলে তোমার দুলাভাই গেলে রিসিভ করো। 

আমি কি হইছে আপনাদের।
আপু বললো কিছু না আমি আগামীকাল আসতাছি।

এই বলে ফোন কেটে দেয়। 
 সেই দিন দুলাভাই বগুড়াতে আসে। আর আমাদের বাড়িতে তাকে নিয়ে আসি। 
তার কাছে জানতে চাইলে সে বলে তার সাথে নাকি আপু আর কোন সম্পর্ক রাখতে চায় না।

আমি বললাম কেন! কি হইছে।
দুলাভাই বললো জানি না।তবে ও কার সাথে জানি সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে। আমি কিছু বলতে গেলে দোষ। কথায় কথায় বলে সম্পর্ক রাখবো না তোমার সাথে। তো তার পর দিন আপু আসে আমাদের এখানে। এসে আমাদের সাথে তেমন কথা বলে না।শুধু কার সাথে জানি ফোনে কথা বলতেই আছে।

এটা দেখে সহ্য না করতে পেরে দুলাভাই নিজের হাত কাটে তা দেখে আমরা একটু ভয় পেয়ে ছিলাম। সেই তার জন্য আমাকে অনেক বকা শুনতে হয়ে ছিল। তো তার পর দিন আপু বলে আমি বাড়ি যাবো। মা আমাকে বলে তুই ও যা, রাস্তার মধ্যে কি না হয়। তার পর আমরা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে আসি, ওখান থেকে দুলাভাই মিরপুরের গাড়িতে উঠে আর আমরা টাঙ্গাইলের গাড়িতে। আপুর বাড়ি গিয়ে পৌছালাম। তার আপু আমার সাথেও তেমন কথা বলে না। সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে। তো তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে কেউ না। আম্মা কে জিজ্ঞাসা করলে বলে ওর খালাতো ভাইয়ের সাথে কথা বলে। তার পর আমি যখন বাড়িতে চলে আসি তখন তার ফেসবুক আইডি গিয়ে দেখি সে একটা সিলেটি ছেলে কে বিয়ে করছে। এটা দেখার পর আমার মাথায় বাস ভাঙ্গার মতো হয়ে গেলো। কিছু মাথায় আসছিল তখন। তার আপু কে বললে আপু স্বীকার করে না।

তার পর থেকে আপু আমাদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে । প্রায় ৩ বছর হয়ে গেলো কোন যোগাযোগ নেই তার সাথে। এখন তার কথা মনে চোখে অশ্রু ঝরে। তবে অশ্রু ঝরে কোন লাভ নেই। 
কথাই আছে পর কখনো আপন হয় না। 

ঠিক তেমনি সেও,কখনো আমাদের আপন ভাবেনি হয়তো।

দোয়া করি যেখানেই থাকুক ভালো থাকে যেন।


কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট