ভ্রমণ

Tahmid Iqbal 5 months ago ভিউ:194

খাগড়াছড়ি-সাজেক-রাঙামাটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।


আমরা ১০ জনের একটি দল খাগড়াছড়ি, সাজেক এবং রাঙামাটি ঘুরে বেরিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম ট্যুরটা যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী করতে কারণ সবাই শিক্ষার্থী। বুদ্ধি করে চললে অল্প খরচেই বেশ ভালোভাবে ঘুরে আসা যায়। 

ভ্রমণ শুরু করার আগেই খাগড়াছড়ি যাওয়ার বাসের টিকিট কাটা, সাজেকে থাকার জায়গা বুক করা এবং রাঙামাটির কোথায় থাকব, সেটাও ঠিক করে ফেলেছিলাম। সাজেকে রিসোর্টের কোনো অভাব নেই। আর আদিবাসীরা কম খরচে তাদের নিজেদের বাসাতেও থাকতে দেয়। সেনাবাহিনীদের তৈরি রিসোর্টেও থাকা যায়। তবে রুইলুই পাড়ার দিকে খরচ তুলনামূলক কিছুটা কম।


আমরা ছিলাম মেঘমাচাংয়ে। বর্ষাকালের সময় আপনি মেঘমাচাং থেকে মেঘ ধরতে পারবেন। অন্য সময়েও ভালো ভিউ পাবেন। লুসাই রিসোর্টটের মাঝখানে বসার জায়গাটাও অনেক ভালো। বর্তমান ভাষায় অস্থির। আর বন্ধুরা একসাথে ঘুরতে গেলে মজাই আলাদা।

ঢাকা থেকে চাঁদের গাড়ি ঠিক করে রেখেছিলাম। ওই গাড়িতে চড়েই রাঙামাটি রওনা হলাম। রাঙামাটিতে থাকার হোটেলের কোনো অভাব নেই।

খাগড়াছড়িতে পৌঁছেই সাজেকে দুপুরের খাবারের জন্য অর্ডার দিই। চাঁদের গাড়িতে করে দীঘিনালা পৌঁছে সকালের নাস্তা করে নিই। বাঘাইছড়ি থেকে সেনারা সব চাঁদের গাড়িগুলোকে একত্রে সাজেকে নিয়ে যান। আমরা এক ঘণ্টার মতো বাঘাইছড়িতে ছিলাম।

সাজেকে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমাদের দুপুর একটা পার হয়ে যায়। এরপর রিসোর্টে গিয়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিই। বেলা দুইটার সময় মারুয়াতি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে যাই।


এরপর পরই গাড়িতে করে রওনা দিই কংলাক পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। একটা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত চাঁদের গাড়ি যায়, এরপর থেকে পায়ে হেটে উপরে উঠি। কংলাক পাহাড়ে বর্ষাকালে ওঠা কষ্ট। আর চেষ্টা করবেন যে স্পঞ্জ টাইপের কিছু যেন পায়ে না থাকে। কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার পথে কয়েকটি কবরও আছে। ছোটখাটো কিছু দোকানও আছে খাবারদাবারের। কংলাক থেকে নেমে এসে আমরা সাজেক হেলিপ্যাডে গিয়েছিলাম। চারদিকে মনোমুগ্ধকর সুন্দর পরিবেশ। আমরা অনেকক্ষণ ছিলাম ওখানে। এটার পাশেই একটা সুন্দর পার্ক ছিলো। ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। আমাদের এক বন্ধুর আত্মীয় সাজেক আর্মি ক্যাম্পে ছিলেন, তাই সন্ধ্যাটা কাটিয়েছি সাজেক আর্মি ক্যাম্পেই। 

পরের দিন ভোরে উঠতে না পারলেই সূর্যোদয় মিস করতে হয়। সূর্যোদয় দেখতে যেতে হয় হেলিপ্যাডে। আমাদের রিসোর্টের ব্যালকনিতে থেকেও সূর্যোদয় উপভোগ করা যায়। স্টোন গার্ডেন, রুইলুইপাড়া গির্জাসহ আশপাশের এলাকাগুলো ঘুরেছি।


এরপর চলে যাই আলুটিলা গুহায়। আলুটিলা গুহার ভেতরে ১৫–২০ মিনিটের মতো ঘুরেছি। সেখানপ মশাল কিনতে পাওয়া যায়, ইচ্ছা করলে মোবাইলের ফ্ল্যাশও ব্যবহার করতে পারেন।


এর পরেই চলে যাই রিসাংয়ে ঝর্ণা দেখতে। ইচ্ছা হলে ঝরনার সাথে সাথে ঝরনার উৎপত্তিস্থল পর্যন্ত দেখে আসা যায়। রিসাংয়ের পথটা ঢালু, তাই ফেরার পথে কষ্ট হয়। ওখানে ভাড়ায় মোটরসাইকেল পাওয়া যায়, যেগুলো আপনাকে সমতল ভূমি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যাবে। 

এরপর সাড়ে নয়টার দিকে আর্মি চেকপোস্ট থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম।

কমেন্ট


সাম্প্রতিক পোস্ট